পরিচিতি
শিক্ষার্থীদের যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন একটি আর্দশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ গুরুত্ব অনুধাবন করে রংপুর সেনানিবাসে কর্মরত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের সন্তানদের পড়াশোনার সুবিধার্থে সেনানিবাস কর্তৃপক্ষ এ আর্দশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। ১৯৭৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে এর অগ্রযাত্রা শুরু হয়। কালক্রমে বিদ্যালয়টি ১৯৭৮ সালে নিম্ন মাধ্যমিক এবং পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত হয়। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় এই যে, সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর-এর মাননীয় মহাপরিচালক মহোদয় ফরিদ আহম্মদ-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৯ সালে বিদ্যালয়টির কলেজ শাখার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
বিদ্যালয়টি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামরিক ভূমি ও সেনানিবাস অধিদপ্তর-এর আওতাধীন রংপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড দ্বারা পরিচালিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা এবং অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বর্তমানে কলেজটি রংপুর অঞ্চলের তথা দেশের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিতি লাভ করেছে।
রংপুর সেনানিবাসের উত্তর প্রান্তে ঘাঘট নদীর পাশে কোলাহল মুক্ত ও মনোরম পরিবেশে ৬.০০ একর জমির উপর মাঠ ও প্রাঙ্গনসহ কলেজটির চতুর্দিকে প্রাচীর পরিবেষ্ঠিত। বিদ্যালয় ভবনটি সুপরিসর দ্বিতল বিশিষ্ট ‘L’ আকৃতির । ১৯৮১ সালের ১৭ মার্চ তৎকালীন উত্তারাঞ্চলের সামরিক অধিনায়ক মেজর জেনারেল আব্দুল মান্নাফ, পিএসসি বিদ্যালয় ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন এবং ১৫ই সেপ্টেম্বর তৎকালীন সেনাপ্রধান লেঃ জেনারেল এইচ এম এরশাদ, এনডিসি, পিএসসি বিদ্যালয় ভবনটি শুভ উদ্বোধন করেন। এ বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি চরিত্রবান ও আদর্শ নাগরিক গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রতিষ্ঠানের নামকরণের ইতিহাস: বীর উত্তম শহীদ লে. আবু মঈন মো. আশফাকুশ সামাদ এর নামে প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।
জন্ম: ৯ জানুয়ারি ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দ মৃত্যু: ২০ নভেম্বর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার সতেরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করা শহীদ আশফাকুশ সামাদের পিতা আজিজুস সামাদ ও মাতা বেগম সাদেকা সামাদ। তিনি ঢাকাস্থ সেন্ট গ্রেগরি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক, নটরডেম কলেজ থেকে ১৯৬৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে ১৯৭১ সালে স্মাতক (সম্মান) ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে ছাত্রাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে ২নং সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি দেশের উত্তরাঞ্চলে সেনাবাহিনীর দলনায়ক হিসেবে বহু সফল সমর অভিযান পরিচালনা করেন এবং বহু এলাকা শত্রুমুক্ত করেন। ১৯৭১ এর ২০ নভেম্বর কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার রায়গঞ্জে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযানে নেতৃত্ব প্রদানকালে সম্মুখ সমরে শাহাদাত বরণ করেন এবং ভুরুঙ্গামারীর জয়মনিরহাট শহীদ সামাদ নগর মসজিদের সম্মুখে পরম শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। দেশের প্রতি এ অসম সাহসী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার অপরিসীম ত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ তাঁকে “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত করা হয় ।